বুয়েটের সেমিনারে বক্তারা

ক্যাপটিভ-নির্ভরতা কমাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে

শিল্প-কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত না হওয়ায় দিন দিন ক্যাপটিভের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

শিল্প-কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত না হওয়ায় দিন দিন ক্যাপটিভের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। অন্যদিকে সরকার ক্যাপটিভ জ্বালানির মূল্য বাড়াচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাপটিভ-নির্ভরতা কমাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টগুলো সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপটিভের তাপ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ও কার্যকর জেনারেটর ব্যবহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যাপটিভের সক্ষমতাকে ৭৩ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) গতকাল ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি) আয়োজিত এক সেমিনারে এ বিষয়ে কথা বলেন বক্তারা।

সেমিনারে ক্যাপটিভ পাওয়ারের ওপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আমান উদ্দীন। ‘‌ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশন ফর ইন্ডাস্ট্রিজ ইন বাংলাদেশ: ওভারভিউ অ্যান্ড রিকমেন্ডেশনস’ শীর্ষক এ গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপটিভ পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুতের গড় কার্যকারিতা প্লান্টগুলোর সক্ষমতার ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ৬৭টি শিল্পে গ্যাস পরিচালিত ২১২টি প্লান্টের ওপর এ গবেষণা করা হয়। মোট ৩৩২ দশমিক ১২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এ প্লান্টগুলোর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা দেখা গেছে ৪০ শতাংশ।

ড. মো. আমান উদ্দীন বলেন, ‘‌প্রায় ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ শিল্পে গ্যাস নিঃসরিত তাপ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেই। ৬১ দশমিক ২ শতাংশ শিল্প-কারখানা জ্যাকেট ওয়াটার তাপ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা ব্যবহার করে না। এ ব্যবস্থাগুলো প্রয়োগ ও কার্যকর জেনারেটর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাপটিভের সামগ্রিক সক্ষমতা ৭৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন কিউবিক ফিট (বিসিএফ) প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় হবে।’

সেমিনারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘‌২০০৯ সালে যখন জ্বালানি খাত নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান করা হয়, তখন আমরা প্রাইমারি জ্বালানিতে বিনিয়োগ না করে সেকেন্ডারিতে আগ্রহী ছিলাম। এর ফলে একটার পর একটা পাওয়ার প্লান্ট করেছি। তিন বছরের জন্য হলেও এখনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েই যাচ্ছি।’

ক্যাপটিভ নির্ভরশীলতা কমাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কখনো সক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারে না। কিন্তু সেখানে ঠিকই প্রচুর জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারলে ক্যাপটিভ শুরুই হতো না।’

এখনো গ্যাসের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান। সেমিনারে বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বলেন, ‘‌আমাদের মূল সমস্যা ফুয়েলের সংকট, এটা না বলে বিদ্যুৎ সংকট বলা ঠিক নয়।’

বুয়েটের আইইএসডির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আলী আহাম্মদ শওকত চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে শিল্প ও জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আরও